স্যামসাং তার জনপ্রিয় গ্যালাক্সি এম সিরিজের নতুন সদস্য গ্যালাক্সি এম১৭ ৫জি নিয়ে ভারতীয় বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কোম্পানির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে একটি টিজার পেজ চালু হয়েছে, যেখানে ফোনটির কয়েকটি আকর্ষণীয় ফিচারের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। যদিও লঞ্চের সঠিক তারিখ, দাম বা উপলব্ধতার বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবু এই টিজার থেকে ফোনটির কিছু মূল বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। ব্যবহারকারীরা ‘নোটিফাই মি’ অপশনে রেজিস্টার করে লঞ্চের খবর পেতে পারেন।



গ্যালাক্সি এম১৭ ৫জি-কে ‘মনস্টার’ থিমের সাথে প্রমোট করা হচ্ছে, যা ফোনটির শক্তিশালী পারফরম্যান্স এবং ডিউরাবিলিটির দিকে ইঙ্গিত করে। ক্যামেরা বিভাগে এটি ‘মনস্টার স্টেডি ইভেন অন দ্য গো’ বলে দাবি করছে। এর অর্থ হলো, ৫০ এমপি নো শেক ক্যামেরা অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন (ওআইএস) প্রযুক্তির সাহায্যে চলমান অবস্থায়ও শেক-ফ্রি ভিডিও ক্যাপচার করতে পারবে। তবে, আলোকসমৃদ্ধি বা শুটিং কন্ডিশনের উপর ফলাফল নির্ভর করবে।
ডিউরাবিলিটির ক্ষেত্রে ফোনটি ‘মনস্টার-গ্রেড’ বলে পরিচিত। এতে কর্নিং গরিলা গ্লাস ভিকটাস ব্যবহার করা হয়েছে, যা ধাক্কা, পড়ে যাওয়া, জল এবং ধুলো থেকে সুরক্ষা দেয়। আইপি৫৪ রেটিং রয়েছে, যার অর্থ এটি ১০ লিটার জল প্রতি মিনিটে ৫ মিনিট ধরে সব কোণ থেকে সহ্য করতে পারে। তবে, সমুদ্র সৈকত বা পুলের জন্য উপযুক্ত নয় এবং সময়ের সাথে সাথে প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে পারে। স্ক্র্যাচ এবং ড্রপ রেজিস্ট্যান্স পরিবেশভিত্তিক হতে পারে।
ডিজাইনের দিক থেকে এটি ‘মনস্টার ওনস দ্য স্টাইল গেম’ – মাত্র ৭.৫ মিমি পাতলা, যা টাইট জায়গায় সহজেই রাখা যাবে। সার্চ ফিচারে ‘সার্চ লাইক এ মনস্টার’ – গুগলের সাথে সার্কেল টু সার্চ, যা ইমেজ, মিউজিক এবং টেক্সট সার্চ সাপোর্ট করে। এর জন্য স্যামসাং লগইন, ইন্টারনেট কানেকশন এবং লেটেস্ট অ্যান্ড্রয়েড ও গুগল অ্যাপ আপডেট দরকার। ফলাফল ভিজ্যুয়াল ম্যাচ, দেশ, ভাষা এবং ডিভাইসের উপর নির্ভর করে, এবং নির্ভুলতা গ্যারান্টিড নয়।
ডিসপ্লের সাইজ ১৭.০১ সেমি (ফুল রেকট্যাঙ্গেল) এবং ১৬.৭৬ সেমি (রাউন্ডেড কর্নার বিবেচনায়), তবে ক্যামেরা কাটআউটের কারণে দৃশ্যমান এরিয়া কম হবে। ব্যাটারি ক্যাপাসিটি ন্যূনতম ৪৮৫৫ মিলিআ্যাম্পিয়ার আওয়ার (আইইসি ৬১৯৬০ স্ট্যান্ডার্ড অনুসারে টেস্টেড), তবে বাস্তব লাইফ নেটওয়ার্ক, ব্যবহার এবং অন্যান্য ফ্যাক্টরের উপর নির্ভর করবে। ২৫ডব্লিউ ফাস্ট চার্জার আলাদাভাবে কেনা যাবে।
পারফরম্যান্সে এক্সিনোস প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে, যার অ্যানটুটু স্কোর ৪৩৯কে (ন্যানোরিভিউ.নেট থেকে টেস্ট ভিত্তিক)। কলের সময় ভয়েস ফোকাস ফিল্টার ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ কমায়। ফাইল শেয়ারিংয়ে ৩ জিবি পর্যন্ত ফাইল, দৈনিক ৫ জিবি লিমিট এবং লিঙ্ক ২ দিন পর মেয়াদোত্তীর্ণ হয়। এর জন্য স্যামসাং অ্যাকাউন্ট এবং ইন্টারনেট দরকার। স্যামসাং জানিয়েছে, সব ফিচার, স্পেক এবং দাম পরিবর্তনের উত্তরাধিকার রাখে রাখে এবং মডেলের উপলব্ধতা লোকেশনভিত্তিক হতে পারে। এআই ফিচারগুলোর জন্য অ্যান্ড্রয়েড ১০ (কিউ ওএস) বা পরবর্তী এবং ওয়ান ইউআই ২.১ বা পরবর্তী দরকার। কোম্পানি এআই-এর দায়িত্বশীল ব্যবহারের উপর জোর দিয়েছে এবং আউটপুটের নির্ভুলতা নিয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
পূর্বের গ্যালাক্সি এম সিরিজের মতো, এই ফোনটিও ভারতীয় বাজারে মিড-রেঞ্জ সেগমেন্টে প্রতিযোগিতা করবে। অ্যামাজন ইন্ডিয়ায় স্যামসাং এম সিরিজের পূর্বের মডেলগুলো গ্রেট ইন্ডিয়া ফেস্টিভাল ২০২২ এবং প্রাইম ডে ২০২৩-এ ৫জি স্মার্টফোন ক্যাটাগরিতে টপ করেছে (ভলিউম অনুসারে), যা নাই স্মার্টপ্রাইস এবং অ্যামাজনের অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে। তবে, স্যামসাং তৃতীয় পক্ষের দাবির জন্য দায়বদ্ধ নয়।
যারা এই ফোনটির জন্য অপেক্ষা করছেন, তারা স্যামসাং-এর অফিসিয়াল সাইটে রেজিস্টার করে লঞ্চের আপডেট পেতে পারেন। আরও বিস্তারিত জানার জন্য ওয়েবসাইট চেক করুন। এই লঞ্চ ভারতীয় স্মার্টফোন বাজারে নতুন আলোড়ন তুলবে বলে মনে হচ্ছে।


