আজ রাজ্যের অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট পেশের পর সাংবাদিক সম্মেলনে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি তাঁর বক্তব্যে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে ধরেন এবং রাজ্য সরকারের জনমুখী পদক্ষেপগুলির কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “ভারতের অর্থমন্ত্রী হওয়া উচিত ছিল অমিতদা (অমিত মিত্র)-র। এত বঞ্চনা সত্ত্বেও আমরা কাজ করে গিয়েছি। সর্বশিক্ষা মিশনের টাকাও বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্র। আমরা কথা দিয়ে কথা রাখি। ভোট এলে বলি, আমরা তোমন নই। কথা দিয়ে কথা রাখা মানুষের ধর্ম।”
তিনি ঘোষণা করেন যে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই ভাতা বাড়বে। আশাকর্মী, প্যারা-টিচারসহ অনেকেই এর সুবিধা পাবেন। আশাকর্মীদের মাতৃত্বকালীন ছুটির দাবি তিনি সমর্থন করেন এবং বলেন, “আমি এটা মনে করি।”
গিগ ওয়ার্কারদের সামাজিক সুরক্ষার অভাব নিয়ে কথা বলে তিনি জানান, একটি পোর্টাল খোলা হবে। সেখানে আবেদন করা যাবে, সার্ভে করা হবে। অসুস্থ হলে বা মৃত্যু হলে পরিবার সাহায্য পাবে।
কেন্দ্রের রিপোর্ট উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ভারত সরকারের রিপোর্ট মোতাবেক ৬৫ শতাংশ বেকারত্ব কমেছে।” তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা ভোটের দিকে তাকিয়ে বাজেট তৈরি করিনি।”
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান, গঙ্গাসাগরের উন্নয়ন, ধর্মীয় স্থান ও কবরস্থানের কাজের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব কাজ চলছে। তিনি অভিযোগ করেন, “বাংলা বললে বাংলাদেশি বলছে। পহেলগাঁওয়ের জন্য আমরা দায়ী, দিল্লি বিস্ফোরণের জন্য আমরা দায়ী।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাকে ওরা বঞ্চনা করেই চলেছে। যেখানে পারছে, বাংলাদেশি বলে মারধর করে দিচ্ছে। অন্তঃসত্ত্বাকেও ছাড়া হচ্ছে না। কোনও টাকাই দিচ্ছে না। শুধু নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত।”
রাজ্যে এতদিন ৯৪টি প্রকল্প চলছিল, আজ আরও পাঁচ-ছয়টি নতুন প্রকল্পের ঘোষণা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন, “সুতরাং সেঞ্চুরি হয়ে গেল।”
শেষে তিনি বলেন, “এত বঞ্চনা সত্ত্বেও এই বাজেট করলাম। কেন্দ্র তো বাংলাকে কিছুই দিল না। কেন্দ্রের কাছে এখনও রাজ্যের ২ লক্ষ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে।”
(এই বক্তব্যের ভিত্তিতে রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেটকে জনকল্যাণমুখী বলে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্পে বৃদ্ধি এবং গিগ ওয়ার্কারদের সুরক্ষার মতো নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।)


