ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন হবে বলে সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে। এই বৈঠকের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক বিরোধ এবং ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসনের দ্বারা ভারতের উপর আরোপিত উচ্চ ট্যারিফের ইস্যু। সাম্প্রতিক কয়েক মাসে দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা বাড়ার পর এই বৈঠকটি একটি নতুন শুরুর সূচনা করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বাণিজ্যিক বিরোধের পটভূমি
সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর শুরুতে ট্রাম্প ভারতের উপর ৫০% আমদানি ট্যারিফ আরোপ করেন, যা মার্কিন প্রশাসনের সবচেয়ে কঠোর ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে একটি। এই ট্যারিফের লক্ষ্য ছিল ভারতের রাশিয়ান তেল আমদানি কমানো এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানো। ট্রাম্প এই ইস্যুতে ভারতকে “ট্যারিফের রাজা” বলে সমালোচনা করেছেন এবং বারবার বলেছেন যে ভারতের সাথে বাণিজ্য “একতরফা বিপর্যয়”। ভারতের পক্ষ থেকে এই ট্যারিফকে “অযৌক্তিক” বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, কারণ ভারতের জাতীয় স্বার্থে রাশিয়ান তেল আমদানি চালিয়ে যাওয়া অপরিহার্য।
এই বিরোধের ফলে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কে টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত মাসে প্রধানমন্ত্রী মোদী চীন সফরে যান এবং চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাৎকে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি একটি “সতর্কবার্তা” হিসেবে দেখা হয়েছে, যা ট্রাম্পের ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ট্রাম্পের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো এমনকি বলেছেন যে মোদীর এই “চীন ও রাশিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠতা” একটি লজ্জার বিষয়।
বৈঠকের সম্ভাব্য উদ্দেশ্য
এই বৈঠকের প্রধান উদ্দেশ্য হবে বাণিজ্য নেগোশিয়েশন পুনরায় শুরু করা। গত ফেব্রুয়ারিতে দুই নেতার শেষ সাক্ষাতে তারা বাণিজ্য চুক্তির প্রথম পর্যায় ২০২৫-এর শরতে সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ট্যারিফ ইস্যুতে বিরোধ দেখা দিলে এই পরিকল্পনা থমকে যায়। এবার সূত্রগুলো জানাচ্ছে যে বৈঠকে দুই পক্ষ রাশিয়ান তেল আমদানি, ট্যারিফ হ্রাস এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর উপর আলোচনা করবে। মোদী এই সাক্ষাতকে “ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের অফুরন্ত সম্ভাবনা” উন্মোচনের সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
এছাড়া, বৈঠকে স্পেস ট্রাভেল, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এবং এনার্জি প্রোডাকশনের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ও উঠে আসতে পারে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ভারতকে ফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং তেল-গ্যাস রপ্তানি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যা এই বৈঠকে আরও শক্তিশালী হতে পারে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
এই বৈঠকটি ইউএন জেনারেল অ্যাসেম্বলি (ইউএনজিএ) এর পাশাপাশি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ২৩-২৯ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হবে। মোদীর ইউএন ভ্রমণের সাথে এই সাক্ষাৎ যুক্ত করা হয়েছে, যাতে বাণিজ্যিক ইস্যু সমাধানের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করা যায়। তবে ভারত সরকার এখনও এই ভ্রমণের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ দেয়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বৈঠক যদি সফল হয়, তাহলে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে নতুন গতি আসবে এবং চীন-রাশিয়ার সাথে ভারতের ঘনিষ্ঠতা কমাতে সাহায্য করবে। কিন্তু ট্রাম্পের “ট্যারিফ ট্যানট্রাম” এবং ভারতের দৃঢ় অবস্থানের কারণে আলোচনা জটিল হতে পারে।
দুই নেতার এই “ব্রোম্যান্স” সম্পর্ক এবার কীভাবে এগোবে, তা বিশ্বের নজরে থাকবে। আরও আপডেটের জন্য আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।


