বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ করে একটি সার্কুলার জারি করেছিল। এই সিদ্ধান্ত রাজধানী ঢাকাসহ দেশজুড়ে রাজনৈতিক সমাবেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর তীব্র চাপের মুখে ইসি সন্ধ্যায় সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয়। এ ঘটনা নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মোহাম্মদপুরে এক জনসভায় এই সার্কুলারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি পরোক্ষভাবে বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “কে নির্বাচন কমিশনকে এসব নির্দেশ দিচ্ছে তা আমি জানি।” তিনি সতর্ক করে দেন, সন্ধ্যার মধ্যে সার্কুলার প্রত্যাহার না করলে ইসি ভবন ঘেরাও করা হবে। এর আগেও এনসিপি এ ধরনের কর্মসূচি পালন করেছে বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। অন্যদিকে, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ধানমন্ডির সমাবেশে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি এবং সবুজ বিপ্লবসহ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে মনোযোগ দেন।
রাজনৈতিক চাপের মুখে ইসি সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের জানান, ভোটাররা মোবাইল ফোন নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। প্রার্থী ও তাদের পোলিং এজেন্টরা প্রয়োজনে ছবি তুলতে পারবেন, তবে ভোটকক্ষের ভেতর ফটোগ্রাফি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। এছাড়া ভোটের আগে-পরে যান চলাচলে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে—মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে তিন দিন মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ এবং বুধবার মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত সাধারণ যান চলাচল নিষিদ্ধ।
এদিন রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়েছে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের বক্তব্য। বাড্ডায় এক সমাবেশে তিনি বলেন, তাদের জোট সরকার গঠন করলে নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রী করা হবে এবং “বিমানের ককপিটে” তাকে বসানো হবে—অর্থাৎ নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেওয়া হবে। এই প্রস্তাব নির্বাচনী মাঠে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


