ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোমবার দিল্লিতে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বাণিজ্য, যোগাযোগ, সীমান্ত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
মিন অং হ্লাইং এ বছর প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এটি তাঁর প্রথম বিদেশ সফর। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের সামরিক-সমর্থিত নেতৃত্বের সঙ্গে আঞ্চলিক শক্তিগুলো কীভাবে যোগাযোগ রাখবে, তার একটি ইঙ্গিত হিসেবে এই সফরটি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলো:
- মোদি মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র এবং বর্তমানে কঠোর গৃহবন্দি অবস্থায় থাকা আং সান সু চির বিষয় উত্থাপন করেছেন।
- দুই দেশ সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, একে অপরের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকলাপ না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
- ভারত-মিয়ানমারের মধ্যে ১,৬৪৩ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে, যা উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা, অভিবাসন ও বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিন অং হ্লাইং অভ্যুত্থান করে আং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করেন। এরপর থেকে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলছে, যাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। অনেকে ভারতের মিজোরাম ও মণিপুরে আশ্রয় নিয়েছেন।মিয়ানমার সাম্প্রতিক নির্বাচনে সামরিক-সমর্থিত দল ব্যাপক বিজয় পায় (যদিও অনেক বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি)। এরপর মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।ভারতের দৃষ্টিকোণ: ভারত মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ককে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে — উত্তর-পূর্বাঞ্চলের স্থিতিশীলতা, ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি এবং চীনের প্রভাব মোকাবিলা। এই সফরকে মিয়ানমারের জন্য কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।মিন অং হ্লাইং প্রথমে বোধগয়ায় মহাবোধি মন্দিরে প্রার্থনা করেন, তারপর দিল্লিতে আলোচনা এবং মুম্বাইয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

Leave a Comment